তোর মতো মালাউনের যোগ্যতা আছিলো না  আমার কেরানী হওয়ার। জীবনে কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিস নাই যে আমি তোরে দেশের প্রধান বিচারপতি বানামু। তোর এতবড়ো সাহস যে তুই এখন আমার চোখের সামনে খাড়াইয়া বেয়াদবি করিস!!!আমার বাবা তোর মতো মালাউনদের ঠিকই চিনছিলো। উচিত ছিল বাংলাদেশে থেকে সকল নমো নামের মালাউনদেরকে পিছা দিয়া পিটাইয়া বালের হিন্দুস্তান পাঠাইয়া দেয়া।আমার বাবা মরার আগেই মালাউন নামের জঞ্জালদের বিদায় করলে আজ এই সমস্যাগুলা  হইতো না।

-২০১৭ সালের ১ জুলাই বঙ্গভবনের এক মিটিং এ  প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে হাসিনা শেখ 

সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা তার নিজের আত্মজীবনী বই ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা, কানাঘুষা, গালাগালি এবং রাজনীতি সমানে চলছে। আলোচনায়  এসেছে প্রধান বিচারপতির আসন থেকে বিদায় নেয়ার সময় তাঁর সঙ্গে সরকারের উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতির।(নোট: বইটি লেখার পর সম্পাদনা করার সময় একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থ, স্বার্থপর এবং নিম্নমানের আচরণকে আড়াল করা এবং মার্জিত ভাষায় সত্যকে তুলে ধরার লক্ষ্যে অনেক কথা বাদ দেয়া হয়েছে।)   সম্পাদনার পর তাঁর এই বইতে ঐ  সময়ের সব ঘটনা ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছেন। ২০১৭ সালের ১ জুলাই বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছিল, সেই ঘটনাও তুলে ধরেছেন তিনি। ওই ঘটনার অংশটুকু কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশি হয়েছে। ব্রেকিংনিউজ পাঠকের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো: এসকে সিনহা লেখেন, “জুলাই মাসের ১ তারিখ, ২০১৭। সকালবেলা আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে একটা কল আসলো। নিজেকে তিনি প্রেসিডেন্টের মিলিটারি সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে জানালেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে হবে। এই ধরণের ফোন পেয়ে আমি কিছুটা অবাক হলাম। কারণ এসব ক্ষেত্রে সবসময় আমার রেজিস্ট্রির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে যে কোন বৈঠকের দিন-ক্ষণ ঠিক করা হয়। ফোনে কথা শেষ করার একটু পরেই ০১৭৩০০৯০০৯৫ নাম্বার থেকে মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন মিটিং এর রিকনফার্মেশন করে একটি এসএমএস পাঠালেন। আমি উদ্বিগ্ন এবং হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকলাম। যা-ই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই আমি বঙ্গভবনে পৌঁছালাম। সামনের বারান্দায় মিলিটারি সেক্রেটারি আমাকে রিসিভ করে একটি রুমে নিয়ে গেলেন। আমি শুধু অবাক হচ্ছি। কারণ বঙ্গভবনে আমি অনেকবার এসেছি, সবসময় আমাকে অভ্যর্থনার জন্য নির্দিষ্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু তিনি এদিন আমাকে অফিসারদের একটা রুমে নিয়ে গেলেন। ভাঙাচুরা মার্কা এক রুমে তিনি নিজে টেবিলের ওপাশে একটা চেয়ারে বসলেন এবং আমাকে সামনের সোফাতে বসালেন। আমি অপমানিত বোধ করতে লাগলাম এবং চিন্তা করতে থাকলাম এভাবে বসার চেয়ে বরং ভেগে যাওয়াই ভালো হবে। এইটা একজন প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য আচরণ না। এই সময় তিনি আমার সাথে এই-সেই কথাবার্তা বলে সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমি চা বা কফি খাবো কি না। আমি বললাম, নো থ্যাংকস। এভাবে পয়তাল্লিশ মিনিট সময় পার হয়ে গেলো। তারপর এক সময় তারা আমাকে প্রেসিডেন্টের রুমে নিয়ে গেলো। ওখানে উপস্থিত মানুষদের দেখে তো আমি হতবাক। প্রেসিডেন্টের সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো: জহিরুল হক, মেজর জেনারেল (অব:) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী এবং নবম ডিভিশনের জেনারেল আকবর। প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা আর আনিসুল হক মিলে আমাকে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় প্রসঙ্গে চেপে ধরলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্কবিতর্ক হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে বললেন, এ পর্যন্ত অসংখ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি রায় দিয়ে বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমি যে খেদমত করেছি তার জন্য সরকার আমাকে চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু এখন এই একটা রায় প্রসঙ্গে দ্বিমত করে আমি সব বরবাদ করে দিচ্ছি। এই কথা শুনে আমার খুব অপমানবোধ হলো। যখন তারা বুঝতে পারলেন যে আমাকে আমার মতামত থেকে নড়ানো সম্ভব না, তখন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাথা গরম হয়ে গেলো। hasina-mockতিনি ভ্যার ভ্যার করে রাগের সাথে উল্টাপাল্টা সব কথা বলতে লাগলেন (তোর মতো মালাউনের যোগ্যতা আছিলো না  আমার কেরানী হওয়ার।  জীবনে কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবিস নাই যে আমি তোরে দেশের প্রধান বিচারপতি বানামু। তোর এতবড়ো সাহস যে তুই এখন আমার চোখের সামনে খাড়াইয়া বেয়াদবি করিস!আমার বাবা তোর মতো মালাউনদের ঠিকই চিনছিলো। উচিত ছিল বাংলাদেশে থেকে সকল নমো নামের মালাউন জাতিকে পিছা দিয়া পিটাইয়া বালের হিন্দুস্তান পাঠাইয়া দেয়া।আমার বাবা মরার আগেই মালাউন নামের জঞ্জালদের বিদায় করলে আজ এই সমস্যাগুলা  হইতো না।  উপরোক্ত গালিগালাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী হাঁপাচ্ছিলেন। তিনি একটু দম নিয়ে পাশের টেবিলের উপরে রাখা পানির গ্লাস নিয়ে পানি খেলেন।  তার পর রুমে উপবিষ্ট রাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো: জহিরুল হক, মেজর জেনারেল (অব:) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী এবং নবম ডিভিশনের জেনারেল আকবরের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, “এই রুমের সকলের দিকে তাকাইয়া দেখ; এরা সবাই আমার চাকর।এদেরকে আমি উপরে উঠাইছি আবার আমি চাইলে লাত্থি মাইরা নিচে নামাইয়া দিমু।এরা সবাই আমার আদেশ পালন করে। আমি মনিব। আমার কথা সকলের শুনতে হইবো। তুইও আমার কথা শুনবি।না শুনলে, তগোর বাপের দেশে চইল্যা যা)।তিনি হুমকি দিয়ে আবারো বললেন, আমার সম্পর্কে সব গোপন খবরাখবর তার ভালো করেই জানা আছে। তার কথাবার্তা শুনে আমি এবার পুরোপুরি বেকুব হয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিলো ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী অন্ধ হয়ে গেছেন। তার একমাত্র উদ্দেশ হলো পরবর্তী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করা। পুরো সময়টাতে প্রেসিডেন্ট নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকলেন, মাঝে মধ্যে শুধু ছোটখাটো দু’একটা মন্তব্য করছিলেন। ঐদিন এ মিটিং এতো গোপনভাবে করা হয়েছিলো যে রাতে আমাদের জন্য কোন খাবারের আয়োজনও করা হয়নি। শেষপর্যন্ত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কোন সমাধান ছাড়াই মিটিং শেষ হয়ে যায়। তখন আমার এতো ক্ষুধা লেগে ছিলো যে আমি দাঁড়িয়ে ঠিকমতো ব্যালেন্স রাখতে পারতে ছিলাম না। যন্ত্রের মতো টলতে টলতে গাড়িতে এসে উঠি এবং বাসায় পৌছার পর শুধু এক গ্লাস পানি খেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। আমার অবস্থা দেখে আমার স্ত্রী খাবার দাবার নিয়ে  সেরাতে আর কোন কথা বলেনি।’’

 

LEAVE A REPLY